পারাপার - হুমায়ূন আহমেদ
"পারাপার"বইটির প্রথমের কিছু অংশ:
ঢাকা শহরে ঘুঘুর ডাক শােনার কথা না। '
কেউ কোনদিন শুনেছে বলেও শুনিনি। ঘুঘু শহর পছন্দ করে না, লােকজন পছন্দ করে না। তাদের পছন্দ গ্রামের শাস্তি দুপুর। তারপরেও কি যে হয়েছে - আমি ঘুঘুর ডাক শুনছি।
বাংলাবাজার যাচ্ছিলাম, গুলিস্তানে ট্রাফিক জ্যামে পড়লাম। রিকশা, টেম্পাে, বাস, ঠেলাগাড়ি সব কিছু মিলিয়ে দেখতে দেখতে জট পাকিয়ে গেলাে। একেবারে কঠিন গিটু। হতাশ হয়ে রিকশায় বসে আছি আর ভাবছি - আধুনিক মানুষের এক জোড়া পাখা থাকলে ভাল হত। জটিল ট্রাফিক জ্যামের সময় তারা উড়ে যেতে পারত। ঠিক এই রকম হতাশা-জর্জরিত সময়ে ঘুঘু পাখির ডাক শুলাম। সেই অতি পরিচিত শান্ত বিলম্বিত টানা-টানা সুর, যা শুনলে মুহূর্তের মধ্যে বুকের মধ্যে মােচড় দিয়ে উঠে। মানুষের শরীরের ভেতরে যে আরেকটি শরীর আছে তার মধ্যে কাঁপন ধরে। | আমি হতচকিত ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক তাকালাম। এমন কি হতে পারে যে কেউ খাচায় করে পাখি নিয়ে যাচ্ছে, সেই পাখি ডেকে উঠল? ইদানীং ঢাশর। লােকদের পাখি পােষা অভ্যাসে ধরেছে। নীলক্ষেতে বিরাট পাখির বাজার।
ট্রাফিক জট কমছে না। জট কমানাের চেষ্টাও কেউ করছে না। রােগা ধরনের এক ট্রাফিক পুলিশ দূরে দাড়িয়ে বাদামওয়ালার সঙ্গে কথাবার্তা বলছে। এখানে যে কনি অবস্থা তা সে জানে বলেও মনে হচ্ছে না। এইতাে দেখি সে বাদাম কিনছে। এক ঠোঙা বাদাম, একটু ঝাল লবণ।
যতই সময় যাচ্ছে অবস্থা জটিল হয়ে আসছে। সবাই কিন্তু নির্বিকার – “যা হবার হােক’ এমন এক ভঙ্গি। কারাে মধ্যেই কোন অস্থিরতা নেই। আমার রিকশা ঘেঁসে একটা মাইক্রোবাস দাড়িয়ে। মাইক্রোবাসের পর্দা টেনে দেয়া। ভেতরের যাত্রীদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। মাইক্রোবাসের ড্রাইভারকে শুধু দেখছি। মনে হল সে খুব মজা পাচ্ছে। একবার সে উঁচু গলায় বলল, “লাগছে গিটু।”
চড় চড় করে রােদ বাড়ছে। আশ্বিন মাসে খুব ঝাঝালাে রােদ ওঠে। বাতাস থাকে মধুর। আজ বাতাস নেই, শুধুই রােদ। রােদের সঙ্গে ঘামের গন্ধ, ঘামের গন্ধের সঙ্গে পেট্রোলের গন্ধ, পেট্রোলের গন্ধের সঙ্গে ঘুঘুর ডাক ঘুঘুঘু। মিলছে না
This content will be shared across all product pages.
Your Dynamic Snippet will be displayed here...
This message is displayed because youy did not provide both a filter and a template to use.